ছাইরঙা শোক
দুচোখ ভিজে প্লাবন নামেভীষণ ব্যাকুলতায়,তোমার নামে জমানো মেঘবৃষ্টি ঝরে যায়…আকাশ জুড়ে ছাইরঙা শোকগুমরে মরে একা,বিদ্যুৎ-শিখা…
⬛শরীরে মৃত্যুর গন্ধ মেখে নিইরাস্তায় নেমেচোখ যেদিকে যায়সেদিকেই জীবন ভেবে হাটতে থাকি।ফিরে এলে তুমি গন্ধ শুঁকে দেখোজীবনের গন্ধকেপাপ বলে অভিশাপ দাওঅথচ, না ফেরার ইচ্ছেটা গোপন রাখি।©Ri Hossain SecretThe scent of death, I wear upon my skin,Stepping out, onto the roads within.Wherever my eyes turn,I walk, believing life does burn.When I return, your senses find and…
জলবায়ুএই জলবায়ু, এ কঠিন ঋতুচক্র আমারআগলে রেখেছি সব ইতিহাস অভিমানে।থামিয়ে-দমিয়ে রেখেছি ভীষণ বন্যার্ত স্রোতভাঙাচোরা তবুও ঠায় দাঁড়িয়ে জড়িয়ে ওতপ্রোত।হাতে হাত রেখে বুনেছিলাম এ ব্যাকুল বাঁধচিবুকের ঘ্রাণে রেখেছিলাম আমার প্রেমোন্মাদ।তোমার তো জানাই আছে কখন বৃষ্টি হয়,তুমি তো জানোই, আর্দ্র বাতাসের পরিচয়…©Ri Hossain The ClimateThis climate, this relentless turn of the year,I’ve held close all the history…
দুচোখ ভিজে প্লাবন নামেভীষণ ব্যাকুলতায়,তোমার নামে জমানো মেঘবৃষ্টি ঝরে যায়…আকাশ জুড়ে ছাইরঙা শোকগুমরে মরে একা,বিদ্যুৎ-শিখা খোঁজে কেবলইএকটু তোমার দেখা…ভাসছে হৃদয় মেঘের ভেলায়উধাও যে কোনো দেশে,কেমন আছো সেই নগরেঅন্য কারো রেশে?একলা মেঘের দীর্ঘশ্বাসেআঁধার হয় যে বেলা,সবটুকু মেঘ ঝরিয়ে তবুও—হয় না শেষ এ খেলা…©রি হোসাইন
এক ঝাপটা বাতাস হয়েতোমায় ছোঁয়ার পরআমার ভেতর উন্মাদনায়লণ্ডভণ্ড ঝড়…সেই ঝড়ে আজ ভেঙেছে ঘরউড়ছে স্মৃতির ধুলো,হৃদয় জুড়ে আছড়ে পড়েপুরোনো মেঘগুলো…শান্ত হওয়ার সাধ্য কোথায়?তুফান ভীষণ ভারী,তোমার জন্যেই বইছে বাতাসবসত ভিটা ছাড়ি…হৃদয় জুড়ে সাইক্লোনেরঅশান্ত এই টানে,কেমন করে শান্ত হবে—তুমি ছাড়া কে জানে?
মনের ভেতর গাইতেছে কিহাহাকারের গান,তুমি ছাড়া এই রাত-দিনঅশান্ত বেঈমান…স্মৃতির ধূসর ধূলিকণাজমছে বুকের বামে,লণ্ডভণ্ড ভেতর পোড়েতুমি ফেরার নামে…শূন্য ঘরে দেয়াল ঘড়িটিকটিক করে হাসে,এই আমিটা ডুবে মরিতোমার দীর্ঘশ্বাসে…©রি হোসাইন
কে হে তুমি আগন্তুক?একলা মিছিলের একাকী ছায়া,রক্তে কি জানি দ্রোহের মায়া—পকেটে নিষিদ্ধ ইশতেহার।বুকের পাটায় অকপট প্রেম,ভাঙতে চাও মানচিত্রের কারাগার;চোখের কোটরে শোষিত কারখানা,জানো না?এখানে জোছনারাও কিস্তির দেনা।নৈঃশব্দ্যের নীলামে চড়ে আসে রাত,তোমার হৃদপিণ্ড—যেন এক নিথর ধর্মঘট।নারীটি তোমার কর্পোরেট বিছানায়,কাঁপিয়ে দিচ্ছে স্টকের ভালুক-ষাঁড়;কথা ছিল ঘাসফুল জড়ানো খোপায়—ইতিহাস হাতড়ে ফেরা স্বপ্ন-অভিসার।তাকিয়ে দেখো বিজ্ঞাপনের লাল ঠোঁট,তোমার চুম্বন চুরি হয়ে গেছে…
একা নও তুমি এই হেরে যাওয়া পথে,যেখানে সময় থমকে দাঁড়ায় এসে;অনেক লড়াই বাকি আছে জেনো আজও—রাতের পরেই নতুন সূর্য হাসে।আঁধার ফুঁড়ে যে পথ গিয়েছে দূরে,সে পথেই হবে যে স্বপ্নের পথচলা;বুকের ভেতর জমানো যতটা জেদ—আরও আছে কিছু না-বলা কথা বলা।রক্তে মিশুক হার-না-মানার গান,পায়ের নিচে শক্ত থাকুক মাটি;ঘোর কালো রাত কাটবেই একদিন—ধৈর্যই হোক বিজয়ের পরিপাটি।আকাশে-বাতাসে মেলে দাও…
যেখানে উৎসবের শব্দ সবচেয়ে বেশি,সেখানেই আমি এক নিভৃত নিরুদ্দেশ;উপেক্ষার ভিড়ে নিজেকে জ্বালিয়ে জ্বলি—থাকা না-থাকার এই তো খেলা শেষ।সবখানে থেকেও, আমি থাকিনা কোথাও,পূর্ণতার মাঝেও এ এক অদ্ভুত আকাল;বেঁচে থাকি রোজ, বারবার মরে গিয়েওআমি একটা হেরে যাওয়া মহাকাল।©রি হোসাইন
উৎসবে যারা মেতেছে উচ্চস্বরে,তারা কি জানে, কেউ একজন একা?সব হারানোর মিছিলে দাঁড়িয়ে আজনিজের সাথেই নিজের হয় না দেখা।নিভে আসে রোজ চেনা দুনিয়ার আলো,স্তব্ধ প্রদীপ জ্বালাচ্ছে স্মৃতির ঘর;চৈত্রের মাসের আগুনেও শীত হিম—নিজের কাছেও আমি তো অনেক পর।আড়ালে লুকাই দীর্ঘশ্বাস-হাহুতাশ,একাকীত্বের ধূসর দুনিয়া বানাই;অচেনা ভিড়েও নিজের ছায়া খুঁজি—মনটাকে শুধু আশাবাদী গান শোনাই।হারিয়েছি আমি আপন চেনা সে নাম,শুকনো পাতায়…
সার্বিয়ান মূল লেখক: মিলেনা পচিনস্কিভাবানুবাদ : রি হোসাইন দিন কেটে যায় স্নিগ্ধ আবেশে,তুমি থাকলে মনের আশেপাশে।তোমার কোমল উষ্ণ পরশে,শুশ্রূষা পায় বুকের বাম পাশে।আর কিছুই তো চাই না আমি আর,তোমার সাথেই হোক না জীবন পার।”তুমি” হবো তোমার কবিতার,উচ্চারিত স্লোগান ভালোবাসার।আজকে জীবন উদ্ভাসিত আলোয়,ভাবনা মেলায় একজোট অবলীলায়।নাইবা থাকো তুমি দৃষ্টিসীমায়,আত্মা মোদের একের ভিতর হারায়।©রি হোসাইন এবং মিলেনা…
মূল কবি: ভেসনা এম. পেত্রোভিচ (সার্বিয়া) ভাবানুবাদ : রি হোসাইন Bangladesh সুচিন্তা, তুমি ছড়িয়ে যাও—প্রতিটি ঘরে, বাজারে, ধর্মশালায়,সবখানে, সম্পূর্ণ গ্রহে…সাথে করে নিয়ে যাও সুখ, শান্তিআর একগুচ্ছ ভালোবাসা।চুলে একটি ঘাসফুল গুঁজেহেসে হেসে ভাসিয়ে দাও রাস্তাঘাট,যেন পায়ের কোমল পদচিহ্নেএঁকে যায় বাসন্তী আল্পনা।পৃথিবীর প্রতিটি প্রাণীনিঃশ্বাস নিক তোমার সুবাসে,তারপর, খুশি হয়ে যাক;হেসে হেসে গড়িয়ে মাড়িয়ে যাক যুদ্ধ,পাষাণেরও মন ভালো…